September 24, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • শিক্ষাঙ্গন
  • ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬ উদযাপিত

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬ উদযাপিত

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেছে স্কুল অব ফার্মেসি। দিনব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল ফার্মা অলিম্পিয়াড, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ভিডিও ও পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের উদ্যোগে এ বছর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে “এমপাওয়ারিং ফার্মাসিস্টস ফর হেলদিয়ার ফিউচারস”।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে শিক্ষা কারিকুলামকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে মানবদেহের কোষে সরাসরি ওষুধ পৌঁছে দিতে ন্যানোরোবট ব্যবহারের মতো উন্নত গবেষণায় পৌঁছে গেছে। তাই সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদেরও পাঠ্যক্রম নতুন করে সাজানোর বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসির চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. শরমিন্দ নীলোৎপল। তিনি বলেন, ফার্মেসি পেশাকে আরও এগিয়ে নিতে হলে আমাদের পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী করতে হবে। একই সঙ্গে এই খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াতে হবে। একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলে গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, ফার্মাসিস্টের নিবন্ধন ও গ্রেডিংয়ের জন্য ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশকে আরও কার্যকর মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং ফার্মেসি পেশার কাজের পরিধি ও দায়িত্বও সুস্পষ্টভাবে ঠিক করে দিতে হবে।

তিনি বলেন, ওষুধের লাইসেন্স প্রদান ও বাজার তদারকির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচ্চতর নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার মান অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে যেমন বায়োইকুইভ্যালেন্স নিশ্চিত করে, স্থানীয় বাজারেও তা নিশ্চিত করা উচিত। এর ফলে রোগীরা একটি ব্র্যান্ডেড ওষুধ এবং তার জেনেরিক বিকল্পের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে এসিআই হেলথকেয়ার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম মহিবুজ জামান বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো অনেক বড় পরিসরে এপিআই উৎপাদন করে। ফলে তাদের উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং তারা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়। এ কারণে বাংলাদেশে এপিআই উৎপাদন কারখানা স্থাপন বর্তমানে খুব বেশি বাস্তবসম্মত নয়।

রেনাটা পিএলসির স্ট্র্যাটেজিক প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কুদসিয়া কাউসার শাহবাজ শেখ বলেন, দেশে এপিআই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল আরও শাণিত করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল ও অবদানের ক্ষেত্রে বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনতেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ আসলাম হোসেন। তিনি ফার্মাসিস্টদের রোগীদের চাহিদা ও কল্যাণকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

Scroll to Top