ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকায় তৃতীয়বারের মতো ‘ঢাকা-চায়না ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের বিভিন্ন খাতের কয়েক হাজার অতিথি ও প্রতিনিধি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এ.এন.এম. এহসানুল হক মিলন এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করায় দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া, পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতা গভীর করা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধন জোরদারে চীন কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী এ.এন.এম. এহসানুল হক মিলন তৃতীয় ‘ঢাকা-চায়না ডে’ সফলভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা খাতে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে শিক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বাংলাদেশ ও চীনের অতিথিরা একটি দীর্ঘ স্ক্রলে যৌথভাবে চীনা ক্যালিগ্রাফি লেখেন। পরে বাংলাদেশ ও চীনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হয়।

এদিকে, আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও কর্মসংস্থানবিষয়ক পরামর্শ, চীনা খাবারের স্বাদ গ্রহণ এবং মধ্য-শরৎ উৎসবকেন্দ্রিক নানা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সুযোগ রাখা হয়।
বিকেল ৩টায় চীন থেকে আসা তিনটি সাংস্কৃতিক বিনিময় দল পৃথক পরিবেশনায় অংশ নেয়। এসব পরিবেশনায় চীনের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট, ধ্রুপদি সংগীত ও নৃত্য তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে চীনের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির নানা দিক বাংলাদেশের দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপিত হয়।

আয়োজনে বাংলাদেশ ও চীনের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ-চীন জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারণ, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।











