October 3, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • পর্যটন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়াতে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা

পর্যটন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়াতে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ব্রিটিশ হাইকমিশন, ঢাকা।

মঙ্গলবার (২৯সেপ্টেম্বর ২০২৬) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহায়তা করে মানা বে (Mana Bay) ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (IHG)।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিমান চলাচল, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখতে চায়। এর মাধ্যমে দুই দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদাহরণ হিসেবে মানা বের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। ব্রিটিশ-সমর্থিত এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপিত হয়। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে পারিবারিক ব্যবসার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে সম্প্রসারিত হয়েছে।

মানা বে’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যটন গন্তব্য উন্নয়নে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে মানা বে ওয়াটার পার্ক কার্যক্রম শুরু করেছে এবং সম্প্রতি ৯৫ কক্ষবিশিষ্ট মানা বে রিসোর্টের সফট লঞ্চ করা হয়েছে।

মানা বে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাশিন হাসান বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে বৈশ্বিক বাজারের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য তৈরির মাধ্যমে তাদের পরিবারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশেই বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা তৈরিতে তারা কাজ করছেন। দেশের ভবিষ্যৎ এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের বিপুল সম্ভাবনার প্রতি আস্থার প্রতিফলন তাদের বিনিয়োগ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপের (IHG) দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা ও ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বানি নায়ার বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন সংযোগ জোরদারে IHG উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা দেখছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে IHG-এর দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের কার্যালয় স্থাপন এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সাম্প্রতিক কৌশলগত সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের বাজারের প্রতি তাদের আস্থা ও দুই দেশের জন্য পারস্পরিক মূল্য সৃষ্টি করে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক হোটেল অপারেটর হিসেবে IHG ইতোমধ্যে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট যুক্ত করেছে এবং ইউনাইটেড টার্মিনালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এয়ারপোর্ট চালুর প্রস্তুতি চলছে। নতুন বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের নতুন পরিবেশে এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের পরবর্তী ধাপের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।

Scroll to Top