July 21, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বিমসটেকের সভাপতিত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

বিমসটেকের সভাপতিত্বে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্ক:

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিমসটেক (BIMSTEC)-কে আরও কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিমসটেককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ সংগঠনে পরিণত করা সম্ভব।

সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (BIISS) মিলনায়তনে “বিমসটেকের তিন দশক: যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া” শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়। বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতিত্ব বাংলাদেশের হাতে থাকায় যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তথ্যভিত্তিক নীতি-সংলাপের উদ্দেশ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করে BIISS।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডে। BIISS-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, এডব্লিউসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন BIISS-এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (BIPSS)-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল এ এন এম মুনিরুজ্জামান (অব.)।

মূল প্রবন্ধে গত তিন দশকে বিমসটেকের অগ্রযাত্রা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়। বক্তারা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাস্তবমুখী ও কর্মভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডে নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, বিদ্যুৎ গ্রিড আন্তঃসংযোগ, জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন, পর্যটন, ভিসা সুবিধাকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিমসটেকের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিস্থাপক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে বাংলাদেশ বিমসটেকের প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে কার্যকর বাস্তবায়ন, বাস্তবমুখী সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক একীভূতকরণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি এবং জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংস্থার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ এবং তথ্য-উপাত্তভিত্তিক নীতি-সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন।

সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের অংশীজন, গণমাধ্যমকর্মী এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

Scroll to Top