ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপির সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা বৃদ্ধি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও দেশব্যাপী উদযাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি-২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, পরিবারের প্রতিটি কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, সমাজে এখনও ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা পরিবর্তন করতে হবে। দেশের অধিকাংশ নারী পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করলেও তারা এখনও নানা ধরনের বৈষম্য ও অপুষ্টির শিকার হন। তাই নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যেকোনো ধরনের অশোভন আচরণ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত ও আইনগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাঁদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার জন্য ডেপুটি স্পীকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। উভয় পক্ষই নারী ও কন্যাশিশুর সার্বিক কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।











