ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার অডিটোরিয়াম ন্যুভেল ভ্যগে শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) অনুষ্ঠিত হলো ফটো আড্ডা-এর একটি প্রাণবন্ত পর্ব। অ্যালায়েন্স অব ফটোগ্রাফার্স (AOP)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফিপ্রেমী, পেশাদার আলোকচিত্রী এবং নবীন অনুশীলনকারীরা একত্রিত হন ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং এবং সমসাময়িক ফটোসাংবাদিকতা নিয়ে একটি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও শিক্ষক আবির আবদুল্লাহ। অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতিমান ফটোসাংবাদিক মুনীর উজ জামান।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের ফটোসাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে মুনীর উজ জামান দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ঘটনাবলি ধারণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর পেশাগত যাত্রার কথা শোনান, যা শুরু হয় বিডিনিউজ ফটো এজেন্সিতে। পরবর্তীতে তিনি ড্রিকনিউজ এবং এরপর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস (AFP)-এ যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ কাভারেজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

আলোচনায় তিনি আফগানিস্তানের যুদ্ধ, থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের মৃত্যুর ঘটনা, পোপ ফ্রান্সিসের শ্রীলঙ্কা সফর, শ্রীলঙ্কার জাতীয় নির্বাচন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কাভারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ফটোসাংবাদিকতার দায়িত্ব, চ্যালেঞ্জ এবং ইতিহাস সংরক্ষণ ও জনমত গঠনে আলোকচিত্রের শক্তি নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
অংশগ্রহণকারীরা তাঁর আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত আলোকচিত্রসমূহ সম্পর্কে জানার সুযোগ পান, যার মধ্যে TIME ম্যাগাজিনের Top 100 Photos of 2021-এ স্থান পাওয়া ছবিগুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তিনি তাঁর অর্জিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথাও তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা সংকটের আলোকচিত্রের জন্য ২০১২ সালে ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাব অব হংকং ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রদত্ত Human Rights Press Award, এবং রানা প্লাজা ধসের আলোকচিত্রের জন্য ২০১৩ সালে PhotoWeek Washington, D.C.-এ প্রথম পুরস্কার।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথি বক্তা ও উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়, যা আলোকচিত্র, গল্প বলার শিল্প এবং সমসাময়িক সমাজে ভিজ্যুয়াল সাংবাদিকতার পরিবর্তিত ভূমিকা নিয়ে অর্থবহ আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করে মুনীর উজ জামান বলেন, “আবির আবদুল্লাহর সঙ্গে ‘ফটো আড্ডা’য় আমার যাত্রা ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করেছি। প্রবীণ ও নবীন—উভয় প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের এই সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার বিশ্বাস, এই আড্ডাটি অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটি অর্থবহ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। তরুণ আলোকচিত্রীদের অনুপ্রাণিত করা এবং আমাদের আলোকচিত্র সম্প্রদায়কে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এ ধরনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”











