ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
রোববার (১৯ জুলাই, ২০২৬) বাংলাদেশে নিযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র মিশরের দূতাবাস আয়োজিত মিশরের ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের ৭৪তম বার্ষিকী উদযাপন উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং শুভেচ্ছা জানান জাতীয় সাপ্তাহিক ঢাকা মিডিয়া-এর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সজীবুল-আল-রাজীব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা, নিরাপত্তা, পর্যটন এবং ঢাকা-কায়রো সরাসরি বিমান যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল-আজহার বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে অধিকতর শিক্ষার সুযোগ ধর্মীয় শিক্ষা ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি মিশরের সরকার, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, পর্যটন এবং আতিথেয়তা খাতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর ফাহমি বলেন, বাংলাদেশ ও মিশর আন্তর্জাতিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং ইউনেস্কোর মহাপরিচালক পদে ড. খালেদ এল-এনানির প্রার্থিতায় বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, মাত্র দুই বছরে বাংলাদেশ ও মিশরের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মিশর বাংলাদেশে পেট্রোকেমিক্যাল, সারসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য রপ্তানি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও পাটজাত পণ্য মিশরের বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠিানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।











