October 19, 2026

শিরোনাম

পোশাকশিল্পে ইএসজি প্ল্যাটফর্ম চালু করল বিজিএমইএ

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড পূরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘ইএসজি প্ল্যাটফর্ম’ বা ইএসজি ড্যাশবোর্ড চালু করেছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ পর্যন্ত ৩২৬টি কারখানা এই প্ল্যাটফর্মে তথ্য দিয়েছে। শিল্পের স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিগগিরই সদস্য কারখানাগুলোর জন্য প্ল্যাটফর্মে তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

ইএসজি বলতে পরিবেশগত (Environmental), সামাজিক (Social) এবং সুশাসন (Governance)–সংক্রান্ত মানদণ্ডকে বোঝায়। বৈশ্বিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গুরুত্ব বাড়তে থাকায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে এসব মানদণ্ড পূরণ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত চাহিদা এবং টেকসই পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারখানাগুলোকে আরও বেশি কমপ্লায়েন্ট ও তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে। বিজিএমইএর উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্ম সদস্য কারখানাগুলোর পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং সেগুলোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৩২৬টি কারখানা প্ল্যাটফর্মে তথ্য দিয়েছে, যা শিল্পের সামগ্রিক প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে শিগগিরই সদস্য কারখানাগুলোর জন্য তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে কাজ করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, গত আট মাসে সরকার জ্বালানি খাতে ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিয়েছে। আগের সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সক্ষম ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ২০২৯ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানান। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য, পুনর্গঠন ও উত্তরণপ্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ লক্ষ্য অর্জনে জুলাই চার্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যকর সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্প। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে প্রচলিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার গণ্ডি পেরিয়ে সাসটেইনেবিলিটির দিকে এগিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শক্তিশালী রপ্তানিভিত্তি অপরিহার্য। ইএসজি-সংক্রান্ত তথ্যকে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগে রূপান্তর করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের সাফল্য অর্জন সহজ হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান বিজিএমইএর সব সদস্য কারখানাকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক নাফিস উদ দৌলা এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা।

বিজিএমইএর উদ্যোগে চালু হওয়া ইএসজি প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশে ডেনমার্ক দূতাবাস। এতে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং ম্যাপড ইন বাংলাদেশ (এমআইবি)।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পোশাক কারখানাগুলোর পরিবেশগত ও সামাজিক কার্যক্রম এবং সুশাসনসংক্রান্ত তথ্য আরও সুশৃঙ্খলভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জন, দায়িত্বশীল উৎপাদনব্যবস্থা জোরদার এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগটি ভূমিকা রাখতে পারে।

Scroll to Top