October 13, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় নেদারল্যান্ডস

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় নেদারল্যান্ডস

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ফন বমেল উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে উভয় দেশের নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক অবকাঠামো, বস্ত্রশিল্প, পানি ব্যবস্থাপনা, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা—বিশেষ করে কোল্ড চেইন উন্নয়নে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বস্ত্র ও পানি ব্যবস্থাপনা খাতে সম্ভাব্য সফর আয়োজনের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। আগামী ৫০ বছরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাহাজ নির্মাণ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাক্ষাতে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধে নেদারল্যান্ডসের সমর্থন চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

পানি খাতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে উভয় পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি ও বদ্বীপ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে খাল খননসহ পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উদ্যোগে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, পানি ব্যবস্থাপনা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারগুলোর অন্যতম।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অভিবাসন, বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা জোরদার, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সভাপতিত্ব, জাতিসংঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

Scroll to Top