ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশে মালদ্বীপের টুনা ও অন্যান্য মৎস্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার হিজ এক্সেলেন্সি শিউনীন রশীদ। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় মালদ্বীপ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দ্য গ্রেট টুনা গালা—ফ্লেভার্স ফ্রম দ্য সানি সাইড’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

প্রায় ২৫০ অতিথির অংশগ্রহণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, পর্যটন ও মৎস্য খাতের অংশীজন এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ বলেন, মালদ্বীপের অর্থনীতি, দ্বীপাঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির সঙ্গে সমুদ্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী পোল-অ্যান্ড-লাইন পদ্ধতিতে টুনা আহরণ মালদ্বীপের টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।






তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মালদ্বীপে পোল-অ্যান্ড-লাইন পদ্ধতিতে পৃথকভাবে টুনা আহরণ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি সামুদ্রিক সম্পদের দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবহারের প্রতি মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বাংলাদেশের বাজারে মালদ্বীপের টুনা ও অন্যান্য মৎস্যপণ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার ফলে পর্যটন, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে মৎস্য ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। টেকসই মৎস্য আহরণ ও পর্যটন উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি পর্যটন প্রচার এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
‘দ্য গ্রেট টুনা গালা’য় মালদ্বীপের মৎস্য ঐতিহ্য ও রন্ধনসংস্কৃতিও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে টুনাসহ বিভিন্ন মৎস্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি মালদ্বীপের খ্যাতনামা শেফ মাহা নাসির সরাসরি রান্নার প্রদর্শনী করেন। তিনি মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার প্রস্তুতের মাধ্যমে দেশটির রন্ধন ঐতিহ্যে টুনা ও অন্যান্য মৎস্যপণ্যের বহুমুখী ব্যবহারের দিক তুলে ধরেন।
অতিথিরা মালদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দেশটির মৎস্য খাত, দ্বীপাঞ্চলের জীবনধারা, খাদ্যসংস্কৃতি ও সামুদ্রিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপকে একটি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবেও তুলে ধরা হয়। দেশটির দ্বীপভিত্তিক পর্যটন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, ‘দ্য গ্রেট টুনা গালা’ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে মালদ্বীপের মৎস্যপণ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ ও ব্যবসা-টু-ব্যবসা অংশীদারত্বের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মৎস্য, বাণিজ্য, পর্যটন ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করে Epitychia Holdings Pvt. Ltd., VARU by Atmosphere, Maldives Industrial Fisheries Company Limited, Maldivian Airlines, Sheraton Dhaka, THE WAY DHAKA এবং INZAA Company Pvt. Ltd.











