ডেস্ক রিপোর্টঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান আরও কার্যকর করতে ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘Invest in Peace’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী ছয়জন বাংলাদেশি সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করেন। একই সঙ্গে ওই হামলাসহ বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষীদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই নয়, জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে শান্তিরক্ষা মিশনে শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ প্রামাণ্য উপস্থাপনাও প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।











