July 25, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • রাজনীতি
  • নিরপেক্ষ থাকলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে জামায়াতঃ ডা. শফিকুর রহমান

নিরপেক্ষ থাকলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে জামায়াতঃ ডা. শফিকুর রহমান

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি আশা প্রকাশ করেছে, তিনি ন্যায়নিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং রাষ্ট্রের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখবেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ-পরবর্তী এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা তাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করছি, তিনি যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কারও প্রতি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করবেন না। তিনি নিরপেক্ষভাবে ও রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করলে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব।”

তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বর্তমানে সংসদের অধিবেশন চলমান থাকায় স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে সময় এলে জামায়াতের অবস্থানও স্পষ্ট করা হবে বলে জানান তিনি।

আমীরে জামায়াত বলেন, “বাংলাদেশ এগিয়ে যাক—এটি সবার প্রত্যাশা। যথাসময়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করবেন। এখানে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। আমরা চাই, দেশে কোনো ধরনের সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হোক।”

রাষ্ট্রপতি পদে একজন মর্যাদাবান ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিকে দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতির পদে কোনো তোষামোদকারীকে নয়, একজন মর্যাদাবান রাষ্ট্রপতিকে দেখতে চাই। আমরা যে সংস্কারের কথা বলছি, তার অন্যতম লক্ষ্য হলো তোষামোদের সংস্কৃতির অবসান ঘটানো। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নীতি ও সংবিধান মেনে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কারও কাছে নিজের বিবেক বিকিয়ে দেবেন না—আমরা এমন একজন রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করি।”

তিনি বলেন, জনগণ একটি পরিবর্তিত ও অগ্রসরমান বাংলাদেশ দেখতে চায়। তবে নবগঠিত সংসদ এখনো সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে পুরোপুরি এগোতে পারেনি। তা সত্ত্বেও সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে জামায়াতে ইসলামী।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সম্ভব হলে দেশের অভ্যন্তরেই চিকিৎসা গ্রহণ করুন। প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দেশে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের নির্বাচিত বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যদি নিয়মিত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান, তাহলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন হবে কীভাবে? দেশের চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে কীভাবে? তাই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের সবারই দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা উচিত।”

Scroll to Top