June 14, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ৩১২ মিলিয়ন ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা দেবে জাপান

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ৩১২ মিলিয়ন ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা দেবে জাপান

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্ক:

মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত জনাব সাইদা শিনিচি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব জনাব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহের জন্য জাপানের জরুরি সহায়তা ঋণের নোট বিনিময়ে স্বাক্ষর করেন।

নোট বিনিময় স্বাক্ষরের পর, জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি মিসেস তাকাহাশি জুনকো এবং জনাব সিদ্দিকী ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশকে প্রায় ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ইয়েন জাপানি ওডিএ ঋণ প্রদান করবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র সাথে যৌথ অর্থায়নে প্রদত্ত এই সময়োপযোগী সহায়তার লক্ষ্য হলো, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তাসহ সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটগুলোর সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব প্রশমিত করতে সাহায্য করা।

এই ঋণের মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংস্কারের গতি এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

রাষ্ট্রদূত সাইদা বলেন, আজকের এই চুক্তি স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের সাথে জাপানের অবিচল অংশীদারিত্বের একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং একটি “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাপানের একটি প্রধান অংশীদার এবং তিনি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য জাপানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই ঋণের আঞ্চলিক ও কৌশলগত তাৎপর্যও রয়েছে। এটি “পাওয়ার এশিয়া”-এর অধীনে প্রথম জাপানি ওডিএ ঋণ প্রকল্প, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ক অ্যাযেক প্লাস অনলাইন শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে উদ্বোধন করেন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মহামান্য জনাব তারেক রহমানও অংশগ্রহণ করেন।

পাওয়ার এশিয়া-র লক্ষ্য হলো জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং কাঠামোগত সহযোগিতা উভয়ের মাধ্যমে এশিয়া জুড়ে জ্বালানি ও সম্পদের স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করা, যার মধ্যে জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহ-শৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ এবং শিল্প স্থিতিস্থাপকতার জন্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করার মাধ্যমে, এই ঋণটি শুধু বাংলাদেশকেই সাহায্য করবে না, বরং জাপান-সংযুক্ত সরবরাহ-শৃঙ্খলসহ এশিয়া জুড়ে সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করতেও অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের অধীনে জাপান-বাংলাদেশ সহযোগিতার বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন—গুণগত অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

জাপান স্বাধীনতার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে সরকার ও জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Scroll to Top