ডেস্ক রিপোর্টঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে এগ্রিভোল্টাইক (Agrivoltaics) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের অধিকার, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সুফলের ন্যায্য বণ্টনকে প্রতিটি এগ্রিভোল্টাইক উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল এগ্রিভোল্টাইকস ওয়ার্কশপ: এক্সপ্লোরিং লোকাল অ্যাকশন মডেল ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মশালার আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (IGES)। এতে সহযোগিতা করে এইচএসবিসি বাংলাদেশ, পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE), জাপানের টেরা কোম্পানি লিমিটেড (TERRA Co., Ltd.) এবং ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন (BGEF)। এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাস, জাইকা এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (JBCCI) কর্মশালাটিকে সমর্থন দেয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে জলবায়ু কার্যক্রম, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক হবে। এগ্রিভোল্টাইক সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন, কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং স্বল্প-কার্বন ও জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, এগ্রিভোল্টাইক শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের নতুন দিগন্তই উন্মোচন করবে না, বরং সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে খাদ্য উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, মানিকগঞ্জে বাস্তবায়িত একটি পাইলট প্রকল্পে উঁচু কাঠামোর সৌর প্যানেলের নিচে ছায়া-সহনশীল ধান, লালশাক ও ধনিয়া চাষের সফলতা যাচাই করা হচ্ছে। ধনিয়া সবচেয়ে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে একই জমিতে সেচ পরিচালনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও কৃষি উৎপাদনের সমন্বিত একটি মডেলও প্রদর্শন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাপানের দূতাবাসের মিনিস্টার ও ডেপুটি চিফ অব মিশন নাওকি তাকাহাশি বাংলাদেশে টেকসই জ্বালানি খাতে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই গ্রামীণ জীবিকা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এগ্রিভোল্টাইক একটি উদ্ভাবনী সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
আইজিইএসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক কাজুহিকো তাকেউচি বলেন, সমন্বিত স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ জলবায়ু কার্যক্রম, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগ্রিভোল্টাইকের আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (JBCCI) সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, সুস্পষ্ট নীতি, উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এগ্রিভোল্টাইক খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, জাপান থেকে বাংলাদেশে এগ্রিভোল্টাইক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানিকগঞ্জের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে একই জমিতে কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত ব্যবহার প্রদর্শনে সহায়তা করতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি গর্বিত।
সমাপনী বক্তব্যে সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, এগ্রিভোল্টাইকের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে স্থানীয় কৃষকদের এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে এবং তাদের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
কর্মশালায় জাপানের অভিজ্ঞতা, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মতামত এবং বাংলাদেশের জন্য নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। আলোচনায় কৃষকদের জন্য সমান সুফল নিশ্চিত, আর্থিকভাবে টেকসই ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তোলা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাপান দূতাবাস, জাইকা, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।











