ডেস্ক রিপোর্টঃ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, পুলিশ জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চায়, নিপীড়ক হিসেবে নয়। পুলিশের ভালো কাজের সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন হলো নাগরিকদের সন্তুষ্টি। সাধারণ মানুষ যদি পুলিশের সেবা ও আচরণে সন্তুষ্ট হন, তবে বুঝতে হবে পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাহবুব মাওলা রিপন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই। কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করতে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, পুলিশও তত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
তিনি বলেন, “পুলিশ আলাদা—এটা শুধু পুলিশ নিজে মনে করলে হবে না। সাধারণ মানুষকে পুলিশের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে সেটি অনুভব করতে হবে।”
জুলাই বিপ্লবের পর জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমরা নিপীড়ক পুলিশ হতে চাই না। সিএমপির পক্ষ থেকে বলতে চাই, আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।”
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে সিএমপি কমিশনার বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। পুলিশের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অনুধাবন ও সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, সাংবাদিক ও পুলিশ একে অপরের পরিপূরক। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন হলে বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে না। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাত্র প্রায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। তাই জনগণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের জন্য আরও সহজ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে পুলিশ ও সাংবাদিক একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের সেবায় নিয়োজিত এই দুই পেশার মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠলে জনগণের প্রত্যাশা আরও ভালোভাবে পূরণ হবে।
তিনি বলেন, জুলাই মাসে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশের পরিবর্তনের ধারায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে পুলিশ ও সাংবাদিক একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের পক্ষে বক্তব্য দেন কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, কাজী আবুল মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, কার্যকরী সদস্য ওয়াহিদ জামান ও সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এটিএন নিউজের প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম পারভেজ, কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার ফারুক মুনির এবং সকালবেলার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী।
এদিকে সিএমপির পক্ষে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহ্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া, ডিসি (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ নূর। এছাড়াও সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।











