July 28, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • কূটনৈতিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কনস্যুলার কোরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

কূটনৈতিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে কনস্যুলার কোরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

Image

মোহাম্মদ সজীবুল-আল-রাজীবঃ

বাংলাদেশে কর্মরত কনস্যুলার কোর (Consular Corps in Bangladesh-CCB)-এর উদ্যোগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সম্মানে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) রাতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, অনারারি কনসাল, সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কনস্যুলার কোরের নির্বাহী কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিশনপ্রধান, অনারারি কনসাল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

স্বাগত বক্তব্যে কনস্যুলার কোর ইন বাংলাদেশের (সিসিবি) সভাপতি ও মঙ্গোলিয়ার অনারারি কনসাল জেনারেল নাসরীন ফাতেমা আওয়াল বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই কনস্যুলার কোরের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করলেও সবার লক্ষ্য এক—বাংলাদেশ এবং বিশ্বের মধ্যে স্থায়ী বন্ধন ও কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কনস্যুলার কোর একটি সাধারণ ফোরাম থেকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে এবং এখন অর্থনৈতিক কূটনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

নাসরীন ফাতেমা আওয়াল বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্ব বহুগুণে বেড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে কনস্যুলার কোরের সদস্যরা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনারারি কনসালরা কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন না; তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি কনস্যুলার কোরের সদস্যদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরা, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, উদীয়মান অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্বে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার “Bangladesh First” নীতিকে সামনে রেখে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ, নতুন রপ্তানি বাজার, উন্নত প্রযুক্তি, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু সহনশীলতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে কনস্যুলার কোরের সদস্যদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে নাসরীন ফাতেমা আওয়াল কনস্যুলার কোরের সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার তথ্য জানান। তিনি বলেন, চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ক্যারিয়ার কূটনীতিক ও সাবেক অনারারি কনসালদেরও সংগঠনের সদস্যপদ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখার পরিকল্পনা থাকলেও দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি সম্মান ও সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় তিনি বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য দোয়া ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সিসিবির সহ-সভাপতি শাহাব সাত্তার (সাইপ্রাস) ও শাখাওয়াত হোসেন (পর্তুগাল), মহাসচিব কাজী শাহ মুজাক্কের আহমাদুল হক ইশমাম (ক্রোয়েশিয়া) এবং কোষাধ্যক্ষ মাসুদ জামিল খান (আয়ারল্যান্ড) বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা, বন্ধুত্ব এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Scroll to Top