ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) ডেনমার্কের জাতীয় সংবিধান দিবস উপলক্ষে ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য রিসেপশনের আয়োজন করা হয়। দিনটি ডেনমার্কে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের জাতীয় উদযাপন হিসেবে পালিত হয়।

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০ জন অতিথি অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে বসবাসরত ডেনিশ নাগরিক, কর্পোরেট স্টেকহোল্ডার, উন্নয়ন অংশীদার এবং বাংলাদেশ-ডেনমার্ক অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ডেনমার্কের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডেনমার্কে গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা—যেখানে সংলাপ, আস্থা এবং অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম সংবিধান থেকে পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় গণতন্ত্রে পৌঁছাতে ডেনমার্কের ৫২ বছর সময় লেগেছে এবং পরবর্তী আরও ৫২ বছরে দেশটি বর্তমান “সহযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা”-তে উন্নীত হয়েছে, যা বহুত্ববাদ ও অংশগ্রহণমূলক নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক এবং এটি গ্রহণযোগ্য বাস্তবতা। রাজনৈতিক ভিন্নতার মধ্যেও আপস ও ঐকমত্য গঠনই অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা ব্যক্ত করেন যে জুলাই চার্টার-এর ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ, সংলাপ ও ঐকমত্য নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (BIDS) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক। তিনি ২০৩৫ সালের দিকে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।











