October 22, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • এলএনজি-এলপিজি আমদানি ও জ্বালানি বিনিয়োগে বাংলাদেশের পাশে আলজেরিয়া

এলএনজি-এলপিজি আমদানি ও জ্বালানি বিনিয়োগে বাংলাদেশের পাশে আলজেরিয়া

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় এসব সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া।

এ লক্ষ্যে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর, ২০২৬) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ সমঝোতা দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

এমওইউর আওতায় জি-টু-জি ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশে তেল শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ সময় আলজেরিয়ান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের জ্বালানি খাতে প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতা স্মারকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাক্ষরের জন্য আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে সার আমদানির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরলে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আলজেরিয়ার বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ জানান তিনি।

এ ছাড়া ওষুধশিল্প, চামড়াশিল্প ও বস্ত্র খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন দুই মন্ত্রী।

বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Scroll to Top