ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী-এর বার্ষিক সামরিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়-২০২৬’ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) মহড়ার সমাপনী ঘোষণা করা হয়।
মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার ও ঘাঁটিতে উপস্থিত থেকে অপারেশনাল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।




তিন ধাপে পরিচালিত এ মহড়ায় কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ (COMEX), লজিস্টিক এক্সারসাইজ (LOGEX) এবং লাইভ এক্সারসাইজ (LIVEX) অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি ধাপে বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি তৈরি করে বাহিনীর সার্বিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
মহড়ায় বিমান বাহিনীর বৈমানিক ও সদস্যরা আকাশযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অনুশীলন করেন। এর মধ্যে ছিল যুদ্ধ বিমানের মাধ্যমে এয়ার অ্যাটাক ও ইন্টারসেপশন, শত্রু কবলিত এলাকা পর্যবেক্ষণ, রশদ ও সেনা স্থানান্তর, বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (CSAR) কার্যক্রম। এছাড়া নবসংযুক্ত অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ব্যবহার করে শত্রু ড্রোন মোকাবেলার কৌশলও প্রদর্শন করা হয়।
রাতের অন্ধকারে শত্রু অঞ্চলে এয়ারবর্ন ট্রুপস ইনসার্শন অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন করা হয়। একইসঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণ শনাক্ত করে যুদ্ধ বিমান ও মিসাইল ইউনিটের সহায়তায় তা প্রতিহত করার কৌশলও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। ঘাঁটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ভূমিভিত্তিক নিরাপত্তা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়।
এবারের মহড়ায় যুদ্ধ বিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, রাডার স্কোয়াড্রন, মিসাইল ইউনিট এবং আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (UAS) ইউনিট সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল—সিলেট, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, শমশেরনগর, বরিশাল, রসুলপুর ও সুধারামসহ—বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটে মহড়াটি পরিচালিত হয়।
মহড়াকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসি (এয়ার উইং) অংশগ্রহণ করে, যার ফলে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় আরও জোরদার হয়।
এই মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিদ্যমান সমরাস্ত্র, প্রযুক্তি ও অপারেশনাল সক্ষমতার মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।











