March 9, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অন্যান্য খবর
  • ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, তার বিচার হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, তার বিচার হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে প্রতিটি নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত না। বর্তমান বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর যে, আইনের শাসন এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হবে। নারী নির্যাতনকারী ও ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো আদালতে অনেক মামলা বিচারাধীন আছে; আর ধর্ষকেরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা সচেষ্ট থাকব যাতে একজন ধর্ষকও বিচারের বাইরে না থাকতে পারে এবং বাইরে ঘুরে বেড়াতে না পারে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদেরকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে হলে তৃণমূল থেকেই তা করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে ৩-৪ জন নারীর ভালো অবস্থান নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠের একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বলতে পারি, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নির্বাচনে নারীদের বেশি করে সুযোগ দিলে সংসদ নির্বাচনে সরাসরি নির্বাচিত আরও বেশি নারী প্রতিনিধি আমরা দেখতে পাবো।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক দীপ্তিমান মহাকাব্য রচনা করেছিলেন। নারী শিক্ষা বিস্তারে তাঁর দূরদর্শী পদক্ষেপ, কন্যাশিশুদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা ও বৃত্তির প্রবর্তন ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের সাহসী অঙ্গীকার।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অনন্য এক অগ্রদূত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নীতির ফলেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এক নতুন দিগন্তে যাত্রা শুরু করে। লাখ লাখ নারী প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন ও কল্যাণে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিতকল্পে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। একই সাথে দরিদ্র পরিবারের, বিশেষ করে মহিলাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

অনলাইন হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড আক্রমণ এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, অনানুষ্ঠানিক কর্মে নারীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের জিডিপিতে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়।

‘গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’—উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনমতের সুষ্ঠু প্রকাশের জন্য সরকার উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, প্রতিটি সাংবাদিক স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করবে।

Scroll to Top