ডেস্ক রিপোর্টঃ
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ঢাকা-১১ আসনের উদ্যোগে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ স্বৈরাচারী শাসনের নানা ধরনের জুলুম, অত্যাচার ও অন্যায়ের শিকার হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়জুড়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নানা বাধা ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
আমিনুল হক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। জনগণের সমর্থন ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে তিনি দলের নেতাকর্মীদের জনগণের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছর ধরে একটি মহল বিএনপিকে নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যাচার করেছে। এসব মিথ্যাচারের জবাব জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেতাকর্মীদেরই নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, দেশের মানুষ ও বিভিন্ন টকশোতে প্রায়ই আলোচনা হয় যে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আইনের মাধ্যমে লড়াই করে সেই বিজয় ফিরিয়ে আনা হবে ইনশাআল্লাহ।
ড. কাইয়ুম আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলের স্বার্থে সবাইকে মেনে চলতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। সন্ত্রাস, মাদক বা চাঁদাবাজির সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা-১১ আসনের জনগণকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত সমাজ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ড. এম এ কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার নেতৃত্বেই অনেক নেতাকর্মী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে যারা ত্যাগ স্বীকার করেন দল একদিন না একদিন তাদের মূল্যায়ন করে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে প্রায় আট হাজারের বেশি রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।











