ডেস্ক রিপোর্ট:
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, শ্রমিকরা কেবল উৎপাদনের যন্ত্র নয়, তারা এদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে করে তিনি বলেন, আজকের মহান মে দিবসে আমাদের শপথ নিতে হবে শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের বিষয়ে। তবেই আমাদের গণতন্ত্র ও মানবিক বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১ মে, ২০২৬) মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রসমূহ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর দেশের শ্রমিক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে চরমভাবে বঞ্চিত ছিল। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি, এমনকি অতিরিক্ত কাজের সঠিক মজুরি থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। কারখানা দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পরিবারগুলো সঠিক বিচার বা ক্ষতিপূরণ পায়নি, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমরা শ্রম আইন বাস্তবায়নে একটি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা ও শ্রমিকের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, সংগ্রাম ছাড়া মুক্তি নেই এবং ঐক্য ছাড়া শক্তি নেই। শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়বো, যেখানে ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যয় এবং সমৃদ্ধির মূলমন্ত্র।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ডক্টর মোঃ জিয়া উদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শওকত আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।











