April 23, 2026

শিরোনাম

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বিএনপি

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চীনের রাজধানী বেইজিং-এ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গণচীনের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিনিধি দলটি গণচীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং-এর সঙ্গে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং-এর সঙ্গে আইডিসিপিসি ভবনে পৃথক বৈঠক করে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সময় যে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর নেতৃত্বে যা সম্প্রসারিত হয়, বর্তমান নেতৃত্বে তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-চীন “Comprehensive Strategic Cooperative Partnership”-কে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও কৌশলগত সহযোগিতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে। একইসঙ্গে সিপিসি ও বিএনপি’র মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার, নিয়মিত মতবিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সফর বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতির ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি ‘এক-চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, চীনা ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়া আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ও পানি পরিশোধন প্রযুক্তি, গ্রামীণ উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ শক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ব্যাটারি এবং হালকা ও মাঝারি শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল, রোবোটিক সার্জারি, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নেতৃত্বে সফররত প্রতিনিধি দলে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

Scroll to Top