September 23, 2026

শিরোনাম

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল বাংলাদেশ ব্যাংকের MPC

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিদ্যমান নীতি সুদহারে আপাতত কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি (Monetary Policy Committee-MPC)। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিঘাতের প্রভাব, বিশেষ করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করবে কমিটি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফা কামাল মুজেরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (BIDS) মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফিরদৌসী নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সায়েদ অংশ নেন। এছাড়া MPC-এর সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাম্প্রতিক দেশীয় ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির (headline inflation) নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার সীমার ওপরে রয়েছে।

মুদ্রানীতি কমিটি মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো অস্থিতিশীল। দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরকার জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে সভায় পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এ অবস্থায় বিদ্যমান নীতি সুদহারে পরিবর্তন আনার আগে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এসব অভিঘাতের প্রভাব আরও পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে MPC। বিশেষ করে এসব পরিস্থিতি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়ন করা হবে।

মুদ্রানীতি কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও জ্বালানি মূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং নতুন পে-স্কেলসহ বিভিন্ন কারণ ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব ঝুঁকির প্রভাব বিবেচনা করেই পরবর্তী সময়ে নীতি সুদহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Scroll to Top