June 14, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারমুখী বাজেটকে স্বাগত জানাল এমসিসিআই, রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারমুখী বাজেটকে স্বাগত জানাল এমসিসিআই, রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ

Image

বিজনেস ডেস্কঃ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি সাহসী উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই)। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর প্রশাসনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) এক প্রতিক্রিয়ায় এমসিসিআই জানায়, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতিতে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

চেম্বারটি উল্লেখ করে, বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে অভিহিত করেছে এমসিসিআই। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া নতুন লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে এবং এতে করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমসিসিআই বলেছে, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং কর নেট সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চেম্বারটি। তাদের মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিনিয়োগ হ্রাসের ফলে কর্মসংস্থান কমছে এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় ভাতা কর্মসূচির জন্য বিশেষ বরাদ্দকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এমসিসিআই। তাদের মতে, এসব কর্মসূচি অভ্যন্তরীণ চাহিদা ধরে রাখতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

এছাড়া ‘BanglaBiz’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবা, বিভিন্ন মুক্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির সম্প্রসারণ এবং ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’-কে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে এমসিসিআই।

কর ব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্কারকে স্বাগত জানালেও কোম্পানির ন্যূনতম টার্নওভার কর যৌক্তিকীকরণে উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত করদাতাদের বিনিয়োগ রেয়াতের হার কমানো এবং সর্বনিম্ন করহার বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও মত দিয়েছে চেম্বার।

ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, পেপারলেস ব্যবস্থা, ত্রৈমাসিক রিটার্ন দাখিল এবং আপিল সংক্রান্ত অর্থপ্রদানের হার কমানোর সিদ্ধান্তকে ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছে এমসিসিআই। একই সঙ্গে করদাতার গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ডেটা আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিক্রিয়ার শেষে এমসিসিআই জানায়, প্রস্তাবিত মেগা বাজেট দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি সাহসী উদ্যোগ। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সুশাসন, কর প্রশাসনের হয়রানিমুক্ত পরিবেশ, রাজস্ব আহরণের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।

Scroll to Top