ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফরেন ইনভেস্টরস’ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) সম্প্রতি ঢাকার রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের বাণিজ্যমন্ত্রী মি. ইয়ো হান-কু এবং তাঁর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশ–কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ)। পাশাপাশি এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহব্যবস্থায় সহযোগিতা আরও গভীর করার বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে এফআইসিসিআইর বোর্ড সদস্য জাহাঙ্গীর সাদাত, জিয়াদ শাতারা, হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ও শামস জামান এবং নির্বাহী পরিচালক টি.আই.এম. নুরুল কবীর অংশ নেন। পুরো আলোচনা সঞ্চালনা করেন এফআইসিসিআইর নির্বাহী পরিচালক টি.আই.এম. নুরুল কবীর।
এছাড়া কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই)-এর প্রেসিডেন্ট শাহাব উদ্দিন খান, উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল, সেক্রেটারি জেনারেল মিলিয়ন পার্ক, পরিচালক এডওয়ার্ড কিম এবং শাহরিয়ার কামাল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে। এ সময়ে বাজারসুবিধা ধরে রাখা, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পখাতে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–কোরিয়া সিইপিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি দিতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশ–কোরিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এলডিসি-পরবর্তী যুগে আরও গতিশীল, বহুমুখী ও টেকসই করার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।











