October 29, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক জোরদারে পর্যটন ও জনসম্পর্কে গুরুত্ব দিলেন নেপালের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক জোরদারে পর্যটন ও জনসম্পর্কে গুরুত্ব দিলেন নেপালের রাষ্ট্রদূত

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকায় ‘নেপাল ইজ কলিং: ভিজিট, এক্সপ্লোর, এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক পর্যটন প্রচার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় ঢাকায় নেপাল দূতাবাস ও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দুই দেশের পর্যটন খাতের প্রতিনিধি, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে পর্যটন ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্য, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য এবং নেপালের বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণের কথা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের নেপাল ভ্রমণ, দেশটির সৌন্দর্য অন্বেষণ এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ২৬ আগস্ট ২০২৬ সালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশটির পর্যটন শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা এবং এ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে চলমান উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে পর্যটন সহযোগিতা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি অংশগ্রহণকারী ট্রাভেল ও ট্যুর উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পারস্পরিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং যৌথ পর্যটন প্যাকেজ তৈরির আহ্বান জানান। এসব উদ্যোগ দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধন আরও দৃঢ় করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সিনিয়র ম্যানেজার সন্তোষ কুমার ঘিমিরে নেপালের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন। এতে অবকাশযাপন, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, অ্যাডভেঞ্চার, সুস্থতা ও বিনোদনভিত্তিক ভ্রমণের পাশাপাশি সভা, প্রণোদনা ভ্রমণ, সম্মেলন ও প্রদর্শনীভিত্তিক পর্যটনের (MICE) বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। তিনি নেপালকে সারা বছর ভ্রমণের উপযোগী, নিরাপদ ও অতিথিপরায়ণ গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ এবং এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল।

আনুষ্ঠানিক পর্বের আগে বাংলাদেশ ও নেপালের ট্যুর অপারেটর এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণে ব্যবসায়িক যোগাযোগমূলক (B2B) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে যৌথ পর্যটন প্যাকেজ তৈরি, দলীয় ভ্রমণ আয়োজন এবং পারস্পরিক প্রচার কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে নেপালের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি তুলে ধরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি র‌্যাফেল ড্রতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য হিমালয়া এয়ারলাইন্সের সৌজন্যে বিমান টিকিট এবং নেপালের বিভিন্ন ট্যুর ও ট্রাভেল এজেন্সির সৌজন্যে বিশেষ হলিডে প্যাকেজ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।

এদিকে, আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ১৪তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এ অংশ নিচ্ছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের নেতৃত্বাধীন দেশটির ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর একটি প্রতিনিধিদল।

Scroll to Top