ডেস্ক রিপোর্টঃ
বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি ট্যুরিজম হাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সকলের সহযোগিতায় অদূর ভবিষ্যতে দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজম উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাবে রূপান্তরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা দূর করতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে Memorandum of Understanding (MOU) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যটন নীতিমালা-২০২৬ প্রণয়নের কাজ চলছে। পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পর্যটন খাতের অগ্রযাত্রায় বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। জাতীয় পর্যটন কাউন্সিলের সভা প্রতি ছয় মাস অন্তর আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে ইতোমধ্যে Tourism Satellite Account (TSA)-এর কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছর এডিপিতে টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সচিব বলেন, অতীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতার কারণে পর্যটন খাতের অনেক উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এই সমন্বয়হীনতা দূর করে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের পরিধির মধ্যে নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রায় পুরো চিত্রই উঠে আসে। দেশের বিশেষ জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য রেখে ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের উন্নয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে পর্যটকদের নিরাপত্তাও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বাংলাদেশে ব্যাক ওয়াটার ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ, কর্মপরিকল্পনা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।











