July 6, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-আলজিয়ার্স সংলাপ বাড়ানোর আহ্বান জানালেন তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-আলজিয়ার্স সংলাপ বাড়ানোর আহ্বান জানালেন তথ্যমন্ত্রী

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ঢাকা ও আলজিয়ার্সের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী দুই দেশের সামনে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই, ২০২৬) ঢাকায় আলজেরিয়ার দূতাবাস আয়োজিত দেশটির ৬৪তম জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সম্পদ ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আলজেরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত আলজিয়ার্সকে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ‘হোয়াইট সিটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সফর বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনেক মিল রয়েছে। স্বাধীনতার জন্য উভয় দেশের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানি বলেন, ৫ জুলাই আলজেরিয়ার ইতিহাসে এক গৌরবময় দিন। ১৩২ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৬২ সালে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। তিনি জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামে তরুণদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দিনটি আলজেরিয়ায় ‘যুব দিবস’ হিসেবেও পালিত হয়।

‘দ্য লেগেসি অব জেনারেশনস’ প্রতিপাদ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এবারের আয়োজন পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে একটি সমৃদ্ধ, সার্বভৌম ও অগ্রসর আলজেরিয়া গঠনে উদ্বুদ্ধ করার বার্তা বহন করছে। তিনি বলেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

রাষ্ট্রদূত সাইদানি বলেন, আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ঔপনিবেশিকবিরোধী আন্দোলনে আলজেরিয়ার বিপ্লব অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বর্তমানে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, জোটনিরপেক্ষতা, ঔপনিবেশিকবিরোধী অবস্থান, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারাসহ ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমধ্যসাগর ও সাহেল অঞ্চলের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে আলজেরিয়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে ইউরোপের গ্যাস আমদানির উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে দেশটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ওষুধ শিল্প, কৃষি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে আলজেরিয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যবসার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়, নেটওয়ার্কিং এবং বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফোরামটি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ও আলজেরিয়াকে এক বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম আরব দেশ ছিল আলজেরিয়া। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই বর্তমানে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানির আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের সদস্য, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মীয় নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ আলজেরিয়ান নাগরিক এবং বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠির সমাপ্তিতে দুই দেশের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

Scroll to Top