May 11, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • জনকল্যাণমুখী ও কর্মসংস্থানবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

জনকল্যাণমুখী ও কর্মসংস্থানবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারি অর্থের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার এখন থেকে কোনো প্রজেক্ট কেবল তখনই অনুমোদিত হবে, যখন সেটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের বিপরীতে সুফল এবং পরিবেশগত সুরক্ষার শর্তগুলো পূরণ করবে।

রবিবার (১০ মে ২০২৬) পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত “স্টিপিং ফরওয়ার্ড: দ্য ইনঅগুরেশন অব রেইজ-২” (Stepping Forward: The Inauguration of RAISE-2) শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকোনমিক ডেমোক্র্যাটাইজেশন বা অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তিনি আরও জানান, অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া অলাভজনক প্রকল্প বর্তমানে পর্যালোচনা বা বাতিলের তালিকায় করা হচ্ছে ।

পিকেএসএফ-এর কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন এবং পিকেএসএফ-এর কার্যক্রমের মধ্যে মিল রয়েছে। আগামী দিনে পিকেএসএফ-এর কাজের পরিধি আরও ডাইভার্সিফাই বা বৈচিত্র্যময় করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে সরকারের নতুন উদ্যোগ যেমন— ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের প্রসারে পিকেএসএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ডেলিভারি পার্টনার হতে পারে।

আমির খসরু বলেন, সরকার সরাসরি নারীদের ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবারের বাজেট রক্ষক হিসেবে নারীদের সরাসরি ক্যাশ ট্রান্সফার করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সঞ্চয় প্রবণতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সরাসরি ইনপুট সহায়তা এবং স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অর্থমন্ত্রী দেশের কামার-কুমার, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র শিল্পীদের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ (একটি গ্রাম, একটি পণ্য) ধারণাটি বাস্তবায়ন করতে চাই। যেমন—বরিশালের শীতল পাটিকে যদি ডিজাইন সাপোর্ট, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে এটি একটি বড় জিডিপি কন্ট্রিবিউটর হবে। এছাড়া থিয়েটার, স্পোর্টস এবং মিউজিককে ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জিডিপিতে এগুলোর অবদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অতীতের অর্থনৈতিক বোঝা এবং বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বে তুলে ধরতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

জনাব জাকির আহমেদ খান, চেয়ারম্যান, পিকেএসএফসভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজমা মোবারেক, সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়।সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন ডাইরেক্টর Dr. Gayle H. Martin, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, পিকেএসএফ-এর কর্মকর্তা, এবং RAISE প্রকল্পের তৃণমূল পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

Scroll to Top