ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্ক:
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগনারাজা-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে তিনি বৈশ্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে United Nations Development Programme-এর উদ্যোগসমূহে বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ইউএনডিপির মূল (কোর) তহবিলে বার্ষিক অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেয়। এই অনুদান নমনীয় অর্থায়ন (Flexible Funding) হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা বৈশ্বিক সংকট ও জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইউএনডিপিকে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং কার্যকর সুশাসনের লক্ষ্যসমূহ ইউএনডিপির বৈশ্বিক মিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
এ সময় কান্নি উইগনারাজা বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের পাঁচ দশকের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত মূল্যবান। ইউএনডিপির কোর তহবিলে বাংলাদেশের অবদান সেই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কেরই প্রতিফলন। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ইউএনডিপি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। ইউএনডিপির কোর রিসোর্সে বাংলাদেশের এই অবদান নবনির্বাচিত সরকারের টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে গর্ববোধ করে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ইউএনডিপির সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের এই নমনীয় কোর ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ইউএনডিপি বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে তাদের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা পাবে। একই সঙ্গে এই তহবিল ইউএনডিপির জবাবদিহিতা, তদারকি এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











