May 5, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সুইডেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সুইডেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মন্ত্রী সোমবার (৪ মে, ২০২৬) মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত Nicolas Weeks-এর সাথে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। মন্ত্রী বলেন, সুইডেনের মতো উন্নত দেশের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আমাদের এই যাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করা, শিশু অধিকার সুরক্ষা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণে সুইডেনের সাথে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী।

আলোচনায় উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিশু অধিকার ও শিক্ষা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি এবং টেকসই সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় করেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। আগামী দিনে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১০ মার্চ ঢাকায় প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৮১৪টি এবং দ্বিতীয় ধাপে বগুড়া জেলায় ৯১১টি পরিবারের নারী প্রধানদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাসিক ২,৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলো ভাতা পাবেন। এই ভাতার টাকা উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া যাবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশুদের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ফুড প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন সম্প্রসারণ এবং শিশু একাডেমির মাধ্যমে শিশুদের বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুবক ছেলে-মেয়েদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষা, কেয়ারগিভার এবং কেয়ার ওয়ার্ক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

রাষ্ট্রদূত Nicolas Weeks বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সুইডেন বাংলাদেশের সাথে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চায়। তিনি নারী ও শিশু সুরক্ষা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু পুষ্টি ও শিক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা খাতে সুইডেনের সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, সুইডেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে টেকনিক্যাল সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সমর্থন প্রদান অব্যাহত রাখবে।

Scroll to Top