ডেস্ক রিপোর্টঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো নাগরিক যেন অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় থেকে বঞ্চিত না হয়—এটি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতিই জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে। সেই সময়ে তিনি এমন বহু মানুষকে দেখেছেন, যারা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বছরের পর বছর বিচারবিহীনভাবে কারাগারে ছিলেন।

ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি এবং শান্তির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়তে সমতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক আস্থা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আদালতনির্ভর বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার ছাড়া কোনো দেশ মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও ভুক্তভোগী মানুষকে সহায়তা দিচ্ছে, যাতে তারা আইনজীবীর সহায়তা পেতে পারে। তিনি বলেন, বিচার শুধু আদালতকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ, যা মানুষের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার সঙ্গে জড়িত।
ন্যায়বিচারে বিলম্বকে ‘বিচার অস্বীকার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে সরকার মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে ইতোমধ্যে হাজারো বিরোধ স্বল্প সময়ে ও কম খরচে নিষ্পত্তি হয়েছে, যা আদালতের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে।
তিনি আরও বলেন, সঠিক সময়ে আইনি পরামর্শ না পেলে ছোট বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। তাই লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে—এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠায় লিগ্যাল এইড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন। এছাড়া, বেসরকারি সংস্থা BRAC-এর ‘সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল’কে বিশেষ অবদানের জন্য মনোনীত করা হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ সম্মাননা গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।











