ডেস্ক রিপোর্টঃ
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটাই সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যারা আহত হয়েছেন, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন কিংবা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের সুস্থ করে তোলা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।”
বুধবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা এক অবিস্মরণীয় দিন। এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার বিজয়ের প্রতীক। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়।
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এলেম, তাইম, নাইমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ সকল শহিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অনুষ্ঠানে একজন মাকে তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে উপস্থিত হতে দেখে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ও অভিভূত হয়েছেন। তিনি আহতদের পুনর্বাসন এবং তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম।











