July 11, 2026

শিরোনাম

আবাসন খাতের সংকট নিরসনে সরকারের সহায়তা চায় রিহ্যাব

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ, করের বাড়তি চাপ এবং ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ও নতুন ইমারত বিধিমালার বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশের আবাসন খাত চরম সংকটে রয়েছে বলে দাবি করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজউক ও রিহ্যাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সভায় রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আবাসন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এই খাতকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৫টিরও বেশি সহযোগী শিল্প পরিচালিত হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ৬২ শতাংশ কমে যাওয়ায় পুরো শিল্প বড় ধরনের চাপে পড়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং নতুন বাজেটে কর বৃদ্ধির কারণে নির্মাণ ব্যয় ৪৩ থেকে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে ব্যাংকঋণের সুদের হার ১৭ থেকে ১৮ শতাংশে পৌঁছানোয় নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবাসন খাতের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু, ১০ হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন এবং করনীতিতে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানায় রিহ্যাব। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন উন্নয়নে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীকৃত নগরায়ণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় রিহ্যাব ড্যাপ-২০২৫ সংশোধনী এবং ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫-এর কয়েকটি ধারা পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানায়। সংগঠনটির মতে, এফএআর, সেটব্যাক, ছোট প্লটে ইউনিট সংখ্যা নির্ধারণ, এসটিপি, গ্রিন বিল্ডিং, টিওডি, টিডিআর, পার্কিং, মিশ্র ব্যবহার এবং পরিকল্পনা অনুমোদনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধানে অস্পষ্টতা থাকায় বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া নিবন্ধন ও কর কাঠামোর বাইরে পরিচালিত শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসাকে দ্রুত আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনারও দাবি জানানো হয়।

সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ডেভেলপারদের হয়রানি করা রাজউকের উদ্দেশ্য নয়; বরং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলাই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ভবনের নকশা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজউকের সব ধরনের সেবা ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Scroll to Top