ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে গম বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতের কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছে ঢাকায় নিযুক্ত রুশ দূতাবাস।
সোমবার (১৭ আগস্ট, ২০২৬) এক বিবৃতিতে রুশ দূতাবাস বলেছে, রাশিয়া-বাংলাদেশের দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে এসব ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রমাণহীন’ দাবি করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও রাশিয়া সরকারের মধ্যে সব ধরনের গম ক্রয় কার্যক্রম নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। আন্তঃসরকারি কাঠামোর আওতায় সম্পাদিত এসব চুক্তিতে অনুমোদনহীন তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্বত্বভোগীর মূল্য নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। চুক্তি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
রুশ দূতাবাস আরও জানায়, রাশিয়া থেকে রপ্তানি করা সব কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক ফাইটোস্যানিটারি মানদণ্ড এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত কারিগরি শর্ত অনুযায়ী কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের আগে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় পরিদর্শন সংস্থার মাধ্যমে গুণগত মান যাচাই করা হয়। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর খাদ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পণ্যের ভৌত ও পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
ফলে রাশিয়া থেকে নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ গম সরবরাহের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে গমের চালানের উৎস নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগও ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দূতাবাসের দাবি, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি মেনে বৈধ অভ্যন্তরীণ কৃষি খাত থেকে সংগৃহীত গম রপ্তানি করে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা রোসাটম ও এর সহযোগী ঠিকাদাররা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখানে অননুমোদিত কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ বা আর্থিক অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে গ্যাজপ্রমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে দূতাবাস জানায়, গ্যাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ভোলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ২০টির বেশি গ্যাসকূপ খনন সম্পন্ন করেছে, যা দেশের গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে।
রুশ দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশকে রাশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও বাংলাদেশে উচ্চমানের কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতের দক্ষতা ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক শর্তে সরবরাহে রাশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিবৃতির শেষাংশে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোকে পেশাগত সতর্কতা অবলম্বন এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে রুশ দূতাবাস। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।











