ডেস্ক রিপোর্টঃ
দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF Dhaka) ২০২৬ উপলক্ষে হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান (IHG)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) ঢাকার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় আসন্ন এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথিদের আবাসন ও আতিথেয়তা সেবা প্রদানে সহযোগিতা করবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রচার এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান (IHG)-এর জেনারেল ম্যানেজার কার্তিক ভি. কে. এবং ডিরেক্টর অব সেলস মো. সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল, মেলা পরিচালক বোরহান উদ্দিন, পরিচালক (বিপণন ও উন্নয়ন) সালাউদ্দিন অটন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান ও অরুনিমা রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ ক্লাবের চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্তিক ভি. কে. বলেন, এ ধরনের একটি কমপ্রিহেনসিভ পর্যটন মেলা শুধু পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক ও পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে না, বরং একটি দেশের পর্যটন সম্ভাবনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের চিত্র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। তিনি এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সার্বিক সহযোগিতায় আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB), ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
এবারের মেলায় ৩০০-এর অধিক স্টলে দেশ-বিদেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভুটান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার অংশগ্রহণ থাকবে।
মেলা উপলক্ষে তিন দিনজুড়ে থাকবে বিটুবি নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, গ্রুপ ডিসকাশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পর্যটনবিষয়ক আলোচনা এবং আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলাটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, ভ্রমণ পরিকল্পনা, বিনোদন ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান ও পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, “এবারের ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের একটি বৃহৎ মিলনমেলা ও পর্যটন উৎসবে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো এই মেলায় আসন্ন শীত মৌসুমের ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় হলিডে প্যাকেজ, ডিসকাউন্ট ও বিশেষ অফার নিয়ে অংশগ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে পর্যটকদের আগ্রহ ও ভ্রমণ প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারকে একটি সফল পর্যটন উৎসবে পরিণত করতে সহযোগিতা করবে।”
আয়োজকরা জানান, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার দীর্ঘদিন ধরে দেশের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন অংশীজন—হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিনিয়োগকারী, দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন উদ্যোক্তাদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার কাজ করে আসছে।
এবারের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক বাজারমুখী করার পাশাপাশি দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোর প্রচার এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।











