ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হোসনে আরা বেগম, এমপি। বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে লিথুয়ানিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ওষুধ, জৈব অবক্ষয়যোগ্য পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য এবং জাহাজ আমদানির আহ্বান জানান।
তিনি বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পেট্রোলিয়াম, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে লিথুয়ানিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বৈঠকে শিক্ষা, জনমিতিক সুবিধা, জনশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা সহজীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি, ফিনটেক, ই-গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা, ই-রেজিস্ট্রেশন, ই-পরিবহন, পরিবহন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উচ্চপ্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব খাতে বাংলাদেশে সহযোগিতা, অংশীদারত্ব ও যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণে লিথুয়ানিয়ার আগ্রহের কথাও রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উচ্চপর্যায়ের সফর, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, ব্যবসায়িক চেম্বারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়, যুব ও শিক্ষার্থী বিনিময়, সাংস্কৃতিক দল বিনিময়, পর্যটন সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
লিথুয়ানিয়া ২০২৭ সালের জুন-জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরবর্তী কাউন্সিল প্রেসিডেন্সির দায়িত্ব পালন করবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশি কিছু পণ্য ও সেবার জন্য লিথুয়ানিয়া বৃহত্তর ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ওষুধসহ নিবন্ধন প্রয়োজন এমন কিছু পণ্য ও সেবা ইইউ বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে লিথুয়ানিয়ার ভূমিকার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের কার্যকর ভূমিকা, ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান কাঠামো ও আইনগত বিধিবিধান অনুসরণ, নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসন এবং বাল্টিক অঞ্চলসহ বৃহত্তর ইউরোপীয় অঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের বিষয়েও আলোচনা হয়।











