ডেস্ক রিপোর্টঃ
বিদ্যমান গ্যাস এবং জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির (বিশেষ করে গাল্ফ ও মধ্য এশিয়ার) মধ্যেও বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি মজুত সরবরাহের অগ্রিম প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা জরুরি। বিভিন্ন রকমের বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে যাতে কোনো মহল উদ্বেগ উৎকণ্ঠা সৃষ্টি না করতে পারে সেজন্য এই বিবৃতি।
মন্ত্রী সংসদকে জানান, আন্তর্জাতিক সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি ও জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে। এর অভিঘাত বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে।
মন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছি এবং জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, বরং আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরো বৃদ্ধি করেছি। গত বছর এই সময়ে আমাদের যে পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছিল, এ বছর আমরা তার চেয়েও বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। ৩০ মার্চ তারিখে দেশে ডিজেলের মোট মজুত ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। এত বিপুল বিক্রয়ের পরও মজুত বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে, সরকার আগাম প্রস্তুতি, ধারাবাহিক আমদানি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, আমরা ২০২৫ সালের মার্চ মাসের চাহিদাকে ভিত্তি ধরে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমাদের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩% ডিজেল, যার সরবরাহ স্বাভাবিক। অর্থাৎ, মোট ব্যবহৃত জ্বালানির মাত্র ৬.০৮% অকটেন ও ৬.৭৭% পেট্রোলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন জ্বালানি সরবরাহের সঠিক চিত্র প্রতিফলিত করে না। এখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে মজুতের প্রবণতা থাকায় এ সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে। এ সংকট উত্তরণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তিনি যোগ করেন, সরকার ডিজেলের পাশাপাশি অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া, দেশীয় উৎস থেকে আরো ৩০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন পাওয়া যাবে।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করেনি। পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানির দাম বারবার সমন্বয় করতে হয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী অনেক দেশেও ২৫ শতাংশের বেশি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে; সেখানে বাংলাদেশ সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে।











