March 31, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • ঢাকায় মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপিত

ঢাকায় মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপিত

Image

ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ

ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী দিবস’-এর ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মিয়ানমারের মিলিটারি, নৌ ও বিমান অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মান ফিও। তিনি উপস্থিত অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২৭ মার্চ উদযাপিত এই দিবসটি মিয়ানমারের স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তিনি বলেন, তাতমাদাও (মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী) দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মান ফিও তাঁর বক্তব্যে তাতমাদাও-এর লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের আলোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা, জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা তাদের মূল অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের ৮১তম বার্ষিকীতে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত ও আনন্দিত। মিয়ানমার দূতাবাসের আমন্ত্রণ ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সম্পর্ক ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক নৈকট্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে উভয় দেশ একসাথে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সীমান্ত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সমস্যার টেকসই সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে, পারস্পরিক আস্থা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ে। তিনি বলেন, “এই আয়োজন আমাদের ইতিহাসকে স্মরণ এবং মূল্যবোধকে পুনরায় দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।”

তিনি জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর যাত্রা শুরু হয় এবং সেই থেকে দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই মিয়ানমার একটি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৬৮ মাইল স্থল ও সামুদ্রিক সীমান্ত রয়েছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ইস্যু সমাধানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমারে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন সরকারের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে কেক কাটার মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদযাপন করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

Scroll to Top