ডেস্ক রিপোর্টঃ
ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশে সর্বাগ্রে পণ্যের বাজার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, তরুণ ও মেধাবী শিল্পী-ডিজাইনারদের সুযোগ সৃষ্টি, দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার, পণ্যের ডিজাইন ও উৎপাদন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বাস্তবায়নে Broader Parameters নির্ধারণ এবং National Pool of Designers গঠনের লক্ষ্যে বিসিকের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার (২৩ আগস্ট, ২০২৬) সকাল ১১টায় বিসিকের বোর্ডরুমে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।




সভায় বিসিক নকশা কেন্দ্রের কার্যক্রম এবং ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে নকশা কেন্দ্রের ভূমিকা তুলে ধরেন নকশা কেন্দ্রের প্রধান নকশাবিদ রাহাত উদ্দিন। তিনি নকশা কেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন ট্রেডের কার্যক্রম, সম্ভাবনা এবং দেশের ৬৪ জেলা থেকে সংগৃহীত ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় পণ্যের তথ্য উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দেশীয় ডিজাইনের বিকাশ, দক্ষ ডিজাইনার তৈরি, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার সেক্টরভিত্তিক পণ্যের সংখ্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে প্রতিটি জেলা থেকে নির্বাচিত সম্ভাবনাময় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
বাংলাদেশ জুট ডাইভারসিফাইড প্রোডাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. রাশেদুল করিম মুন্না পণ্যভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা এবং প্রতিটি পণ্যের জন্য পৃথক ডিজাইনার পুল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ ক্রাফটের প্রতিনিধি ইমরান খান প্রাকৃতিক তন্তুভিত্তিক পণ্যের উন্নয়ন ও দক্ষ ডিজাইনার তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর আজহারুল ইসলাম বলেন, National Pool of Designers গঠনে মাধ্যমভিত্তিক দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, ডিজাইনার এবং বিপণন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ডিজাইন উন্নয়ন করতে হবে।
বিশিষ্ট ডিজাইনার বিবি রাসেল বাংলাদেশের কারুশিল্পীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার প্রশংসা করে দেশীয় ডিজাইন ও পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দেশীয় ঐতিহ্য ও নিজস্ব ডিজাইনকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সাত্তার মেধাবী ও সম্ভাবনাময় ডিজাইনারদের চিহ্নিত করে তাঁদের কাজের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিদেশি ডিজাইনের অনুকরণ পরিহার করে নিজস্ব ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে নতুন ডিজাইন উদ্ভাবনের আহ্বান জানান।
বুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগের প্রফেসর মো. জাকিউল ইসলাম National Pool of Designers গঠনে গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও দক্ষ ডিজাইনার নির্বাচন এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির পরিধি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিনিধি তাহমিদ, জয়িতা ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মুনমুন নাহারসহ অন্যান্য অংশীজনরা অংশ নেন। তাঁরা পণ্যভিত্তিক ডিজাইন উন্নয়ন, ডিজাইনার নির্বাচন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমকে সম্পৃক্তকরণ এবং দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, কাঁচামাল, পণ্য, ডিজাইন, যন্ত্রপাতি, উৎপাদন সক্ষমতা, বিপণন ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। দেশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অংশীজনদের সুপারিশ ও দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে বিসিক।











