ডেস্ক রিপোর্টঃ
আধুনিক গণমাধ্যম ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার একটি ‘আধুনিক গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) দুপুরে ঢাকার শফিকুল কবির মিলনায়তনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রয়াত দুই সদস্য নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের হাতে গ্রুপ বীমার চেক হস্তান্তর করা হয়।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক গণমাধ্যম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সমন্বিত এক ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে, যেখানে তথ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি ব্যক্তিমালিকানাধীন গণমাধ্যমকে একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা যায়।

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশন এমন নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যেখানে একদিকে সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করবে না, অন্যদিকে মালিকপক্ষও সাংবাদিকদের ওপর অপব্যবহার করতে পারবে না—এবং সাংবাদিকরাও যেন দায়িত্বের অপব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত বীমা সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি এর চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন এবং প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও মো. কাজিম উদ্দিন।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনে ‘এনওসি’ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ স্বাধীনতার পরিপন্থী ছিল, যা সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানে সার্ভিস বেনিফিট, পিএফসহ সব সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, অনেক সাংবাদিক দীর্ঘদিন কাজ করেও ন্যূনতম সুবিধা পান না, এমনকি মৃত্যুর পর পরিবারের প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানোও কঠিন হয়ে পড়ে। সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, ৬০ বছরের বেশি বয়সী সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন এবং পূর্ণ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি বাস্তবায়ন এবং ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।











