ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সোমবার (২৪ আগস্ট, ২০২৬) নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অভিবাসন বিষয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের মধ্যে কার্যকর যোগসূত্র স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন।




এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত টিটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ পাঠক্রম আধুনিকায়ন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ এবং নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা ও অভিবাসন চিত্র তুলে ধরে অনিয়মিত অভিবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত প্রতারণার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “দেশের অভ্যন্তরে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দিয়েই বিদেশে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
তিনি সকল অংশীজনের সমন্বয়ে Whole-of-Government এবং Whole-of-Society প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যবাপনাকে সুসংহত, আধুনিক ও অধিকারভিত্তিক করার আহ্বান জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী অভিবাসীবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রার্থী ও প্রত্যাগত অভিবাসীদের কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা সময়োপযোগী এই সভা আয়োজনকে স্বাগত জানান। তিনি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের প্রসারে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী ১৪টি অভিবাসনপ্রবণ জেলার জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের অভিবাসন চিত্র এবং অভিবাসীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সুসংহত করার লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের অবহিত করেন।
আলোচনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবচিত্রের ভিত্তিতে জাতীয় নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে অভিবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে প্রাপ্ত শ্রমবাজারের চাহিদা, গন্তব্য দেশের কর্মী নিয়োগের শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক প্রাসঙ্গিক তথ্য জেলা প্রশাসকদের অবহিত করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে এ বছর জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় International Migration Review Forum (IMRF)-এ উপস্থাপিত বাংলাদেশের বক্তব্য ও অঙ্গীকার এবং অভিবাসন বিষয়ে গন্তব্য দেশগুলোর অবস্থান তুলে ধরেন।
একই মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়—পূর্ব ও পশ্চিম) রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম তাঁর সমাপনী বক্তব্যে জানান, সভার আলোচনা থেকে উদ্ভূত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংকলন করবে। সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এসব সুপারিশ ব্যবহার করা হবে।
সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা; বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL)-এর প্রতিনিধি; অভিবাসনপ্রবণ ১৪টি জেলা—কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, নোয়াখালী, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও সুনামগঞ্জ—এর জেলা প্রশাসকরা; ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) মিশন প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।











