March 12, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • বাংলাদেশ–থাইল্যান্ড সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যাক্ত করলেন থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ–থাইল্যান্ড সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যাক্ত করলেন থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত মিসেস থিটিপর্ন চিরাসাওয়াদি আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ–থাইল্যান্ড সম্পর্ক জোরদারে তার সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আসিয়ান অঞ্চলের বাইরেও বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে এটি থাইল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় বাজার।

বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সেবার জন্য থাইল্যান্ড এখনও বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। উভয় পক্ষই জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী এপ্রিলে থাইল্যান্ডে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর বাংলাদেশ–থাইল্যান্ডের মধ্যে চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশন (FOC) আয়োজন করা যেতে পারে। এতে চলতি বছরে উচ্চপর্যায়ের সফরের পথও সুগম হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে, দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন যাতে দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত পর্যটন ও হসপিটালিটি প্রশিক্ষণে চলমান সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন এবং জানান, এপ্রিলের শেষ দিকে থাই রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে একটি থাই কুলিনারি প্রমোশন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এছাড়া জুলাই মাসে ঢাকায় একটি থাই বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দক্ষ জনশক্তি বিনিময়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ আইসিটি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল সরবরাহ করতে পারে। পাশাপাশি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় থাইল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন তিনি।

বৈঠকে বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Scroll to Top