February 15, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • অন্যান্য খবর
  • সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ রূপসার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ রূপসার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে

Image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করা সংগঠন RUPSA (Rural & Urban Poor’s Partner for Social Advancement) ২০২৬ সালের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংখ্যালঘু অন্তর্ভুক্তি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত নির্বাচন দিবসের একটি প্রাথমিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনায় প্রকাশিত এ বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এবারের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা তীব্র রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে জনআলোচনার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রূপসা জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে পূর্ণ ও কার্যকর নির্বাচনী অংশগ্রহণে নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছে। বৈষম্য, তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিশোধের আশঙ্কা এসব বাধার মধ্যে অন্যতম। এ প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অবাধ ও নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও সততার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

নির্বাচন দিবসে রূপসা ছয়টি বিভাগ—বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও চট্টগ্রামের ২৫টি সংসদীয় আসনে ২০০ জন প্রশিক্ষিত নাগরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে। তারা ভোটগ্রহণের উদ্বোধন, ভোটদান এবং সমাপ্তি ও গণনা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। সংগঠনটির দাবি, তাদের এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নির্দলীয়ভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আচরণবিধি অনুসরণ করা হয়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মোট ৫০৯টি ভোটকেন্দ্রে পদ্ধতিগতভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে উদ্বোধনী পর্যায়ে ১০০টি, ভোটদান পর্যায়ে ৪০৯টি এবং সমাপ্তি ও গণনা পর্যায়ে ১৭৯টি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নির্বাচন-পূর্ব সময়ে রূপসা ছয়টি বিভাগের সংশ্লিষ্ট ২৫টি আসনে ৫০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এসব সভায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রতিনিধি, দলিত সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, চা শ্রমিক, জেন্ডার-বৈচিত্র্যপূর্ণ ভোটার ও সংখ্যালঘু নারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে কাঠামোগত ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনুচিত প্রভাব বিস্তার এবং ভোট কেনাবেচার অভিযোগ। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এছাড়া জমি-সংক্রান্ত রাজনৈতিক চাপ, জাতিভিত্তিক বৈষম্য, নথিপত্রের অসামঞ্জস্য এবং ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

উদ্বোধনী পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে প্রক্রিয়া নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। প্রায় সব কেন্দ্র সময়মতো খোলা হয়, প্রয়োজনীয় উপকরণ উপস্থিত ছিল এবং খালি ব্যালট বাক্স যথাযথভাবে প্রদর্শন ও সিল করা হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক ও দলীয় এজেন্টদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয় এবং ভোটার তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত ছিল। যদিও কিছু কেন্দ্রে সামান্য প্রক্রিয়াগত ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে, তবুও সার্বিকভাবে উদ্বোধনী পর্যায় স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভোটদান পর্যায়ে ৪০৯টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ সংখ্যালঘু ভোটার বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন এবং ব্যালটের গোপনীয়তা বজায় ছিল। সংখ্যালঘু নারীরাও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে কিছু এলাকায় ভোটকেন্দ্রের আশপাশে ভয়ভীতি, চলাচলে সীমাবদ্ধতা, সারি ব্যবস্থাপনায় অসাম্য এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠে আসে। কিছু কেন্দ্রে ভোটার সহায়তা প্রদানে নিরপেক্ষতার ঘাটতির বিষয়ও পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুরক্ষামূলক হিসেবে বিবেচিত হলেও কিছু সংসদীয় আসনে অতিরিক্ত মোতায়েন ও উত্তেজনার তথ্য পাওয়া গেছে।

সমাপ্তি ও গণনা পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে অধিকাংশ কেন্দ্র নিয়ম অনুযায়ী বন্ধ ও গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বলে জানায় রূপসা। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র বন্ধের সময় উপস্থিত ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়া, গণনার সময় পর্যবেক্ষক বা দলীয় প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ব্যালট বাতিলের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রশাসনিক অনিয়ম, সহিংসতা ও ভয়ভীতিসহ মোট ১৪টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যা বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রূপসা মনে করে, যদিও নির্বাচন দিবসের সামগ্রিক চিত্র সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ছিল, তবুও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ড অনুযায়ী সমতা, বৈষম্যহীনতা ও সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংগঠনটি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সমাপ্তি ও গণনা পর্যায়ে নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ, পর্যবেক্ষক ও দলীয় প্রতিনিধিদের অবাধ প্রবেশাধিকার, ভয়ভীতি প্রতিরোধ, বৈষম্যবিরোধী প্রশিক্ষণ জোরদার এবং ঘটনা রিপোর্টিং ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রূপসা জানায়, মার্চ-এপ্রিল মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রায় ২৫টি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা আয়োজন করা হবে। এসব আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী অভিজ্ঞতা, সম্ভাব্য বর্জন, ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা এবং ভোটার অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলেছে এমন সামাজিক ও কাঠামোগত কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী তথ্য এবং নির্বাচন দিবসের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংগঠনটি একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।

Scroll to Top