বাংলাদেশের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু সনদ অর্জন নয়, বরং নৈতিক, দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলা—যারা দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির উপদেষ্টা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মাহদি আমিন।

Youth Council of Bangladesh-এর আয়োজনে আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) গুলশানের আমারি হোটেলে অনুষ্ঠিত “Education of Bangladesh: in the age of Artificial Intelligence” শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাহদি আমিন বলেন, “জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেখানে যেতে আমাদের তরুণদের সবচেয়ে বড় বাধা ইচ্ছার অভাব নয়—ভাষা দক্ষতা ও কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণের ঘাটতি।”
তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে শিক্ষার মূল শক্তি শিক্ষকরা। “এই কারণেই আমরা ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবলেট’ নীতি নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে শিক্ষকরা নিয়মিত শিখতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের আরও মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারেন। প্রযুক্তি শিক্ষকের বিকল্প নয়—এটি শিক্ষকদের শক্তিশালী করে।”

ড. মাহদি আমিন আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ব্রেইন ড্রেইনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করা। তরুণরা আন্তর্জাতিক দক্ষতা অর্জন করবে, আবার সেই দক্ষতা নিয়ে দেশে ফিরে কাজ করবে—এটাই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথ।”
ভবিষ্যৎ শিক্ষা সংস্কারে বিএনপি প্রতিভা শনাক্তকরণ, শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং অবকাঠামোর চেয়ে মানুষের ওপর বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানান তিনি। “টেকসই উন্নয়ন কেবল কংক্রিট দিয়ে আসে না—মানুষে বিনিয়োগের মাধ্যমেই আসে।”
প্যানেল আলোচনায় তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করতে পারে, যদি তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়। এজন্য প্রয়োজন নীতিগত সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শ্রমবাজারের সঙ্গে শিক্ষার সরাসরি সংযোগ।
Youth Council of Bangladesh মনে করে, এই ধরনের সংলাপ বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্যানেল আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন- ববি হাজ্জাজ, চেয়ারম্যান, ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (NDM), শাহির চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO), শিখো; শাফকাত রাব্বী কলাম লেখক, ব্যাংকার ও শিক্ষাবিদ, ফাউন্ডার, সেন্ট্রিস্ট নেশন।











