February 12, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • জাতীয়
  • রোকেয়া পদকজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

রোকেয়া পদকজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

Image

‘বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫’ জয়ীদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত ছিলেন এ বছর রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত রুবহানা রাকিব, নাবিলা ইদ্রিস, কল্পনা আক্তার ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

শুরুতেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রোকেয়া পদকজয়ীরা। তারা এ ঘটনার কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। পদকজয়ীরা বলেন, সংবর্ধনা নিয়ে তারা আনন্দিত ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর তারা বিচলিত। একই সঙ্গে দেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে ঐক্য জোরদারের পরামর্শ দেন তারা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আমি পরিবারটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং হাদির চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কথা হয়েছে, তারাও সহায়তা করছে।”

প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক রোকেয়া পদকজয়ীর কর্মক্ষেত্র ও চলমান কাজের খোঁজ নেন। নারী অধিকার (শ্রম অধিকার) ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্ত কল্পনা আক্তার শ্রম আইন পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শ্রম কনভেশনে স্বাক্ষর করায় প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “শ্রম আইন পরিবর্তন ও কনভেনশন—এই দুটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এত অল্প সময়ে এগুলো বাস্তবায়ন করায় ধন্যবাদ।” তিনি অতীত সরকারের আমলে মামলার মাধ্যমে হয়রানির কথাও তুলে ধরেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা কল্পনা আক্তারকে একজন শক্তিশালী নারী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “তিনি সবসময় ন্যায্য কথা বলেন এবং বিশ্বজুড়ে সম্মানিত।” তিনি শ্রমিকদের বেতন, কর্মপরিবেশ ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা করেন।

গবেষক ড. রুবহানা রাকিবের কাছে আইসিডিডিআরবি’র সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় আইসিডিডিআরবি ও রোহিঙ্গারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরকার এ বিষয়ে নিরন্তর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার কাছে নারী ফুটবল দলের থাকা-খাওয়া, অনুশীলন সুবিধা, নতুন খেলোয়াড়দের আগমন ও পারফরম্যান্স বিষয়ে খোঁজ নেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “দেশের সবাই নারী ফুটবল দলকে ভালোবাসে। তোমাদের সম্মানিত করা মানে তোমাদের অনুসারীদেরও অনুপ্রাণিত করা।”

মানবাধিকার ক্যাটাগরিতে রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত নাবিলা ইদ্রিসের প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “তুমি শুরু থেকেই দৃঢ়তার জন্য প্রশংসিত। মানবাধিকার বিষয়ে বহু মানুষকে সচেতন করেছো।” নাবিলা ইদ্রিস গুমের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করায় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং এটিকে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রোকেয়া পদকজয়ী চারজনকে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক সংগ্রাম ও জীবনযাত্রা নিয়ে তাঁর লেখা বই ‘বেলতৈল গ্রামের জরিমন, ও অন্যান্যরা’ উপহার দেন।

এসময় নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

Scroll to Top