অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সকল নাগরিককে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর দ্বারা সংঘটিত সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং জানমাল ধ্বংসের যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দনীয়।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫) এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, দেশের ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু সংখ্যক বিশৃঙ্খলাকারীর কারণে এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি গুরুতর জাতীয় অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার শহীদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে হলে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণা প্রত্যাখ্যানের প্রতি অবিচল থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও নিউ এজ–এর সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে সরকার জানায়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানেই সত্যের ওপর হামলা। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাস ও সহিংসতার মুখেও সাংবাদিকদের সাহস ও সহনশীলতা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
এছাড়া ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বিবৃতির শেষাংশে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এই সংকটময় মুহূর্তে সহিংসতা, উসকানি ও ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শহীদ হাদির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।











