February 6, 2026

শিরোনাম
  • Home
  • আন্তর্জাতিক
  • রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের শক্তি নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নতুন অধ্যায়: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের শক্তি নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নতুন অধ্যায়: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন

Image

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দার খোজিন আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) “২০২৫ সালের রাজনৈতিক ফলাফল” শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি এবং এই প্রকল্প বাংলাদেশ–রাশিয়া সম্পর্কের সাফল্যের এক প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও নিরাপদ শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (RNPP) বাংলাদেশের প্রথম মৌলিক শক্তি উৎপাদন প্রকল্প, যা রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত ও পরমাণু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রসাটমের সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। দীর্ঘ নির্মাণ পর্ব শেষে প্রকল্পটি এখন শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। রূপপুর প্রকল্পে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি VVER‑1200 ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশকে শক্তি নিরাপত্তা ও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক গ্রিডে অবদান রাখতে সক্ষম করবে।

এ বছরের মাঝামাঝি রসাটম ঘোষণা করেছে যে রূপপুর NPP‑এর ইউনিট‑১‑এর জন্য প্রধান ও সহায়ক ট্রান্সফরমারগুলোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে সংযোগের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। এই ডুয়াল‑মোড ট্রান্সফরমারগুলি উভয়—জাতীয় গ্রিড এবং কেন্দ্রের নিজস্ব জেনারেটর থেকে শক্তি গ্রহণ করতে সক্ষম, যা রূপপুরকে প্রস্তুত অবস্থার আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই তথ্য এবং প্রশ্ন উঠে থাকলেও কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার নিশ্চিত করেছেন যে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (BAERA)‑র অনুশাসিত নিরাপত্তা মান পূরণ করা হচ্ছে এবং উভয় ইউনিটের অপারেশন শুধুমাত্র সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেলে শুরু হবে।

রাষ্ট্রদূত খোজিন বলেন, রূপপুর প্রকল্পটি কেবল বাংলাদেশের পাওয়ার গ্রিডকে শক্তিশালী করবে তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সহযোগিতা, দক্ষ জনবল তৈরী ও উচ্চ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি রচনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে পরমাণু শক্তি উৎপাদনকারী দেশের মর্যাদায় উন্নীত হবে এবং দেশের মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

Scroll to Top