ঢাকায় অবস্থিত কাতার দূতাবাস বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কাতারের জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও কাতারের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কাতারের জনগণ, সরকার ও আমিরের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কাতার অল্প সময়ের মধ্যেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য অর্জন করেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি ১৯৭৩ সালের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বিস্ময়কর পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার কাতার সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সুদৃঢ় হয়েছে। কাতার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী দেশ, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কাতারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে কাতারে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে কাতারকে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য আরও প্রতিযোগিতামূলক বাজার সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান।
জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে কাতারের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের রিটার্ন অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সেরায়া আলী আল-কাহতানি বলেন, কাতারের জাতীয় দিবস উপলক্ষে অতিথিদের স্বাগত জানাতে পেরে তিনি গর্বিত।
তিনি বলেন, ১৮ ডিসেম্বর কাতার রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জাসিম মোহাম্মদ আল থানির নেতৃত্বে ১৮৭৮ সালে কাতার রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়। তিনি প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, গত বছর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, পর্যটন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ–কাতার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে কাতারে চার লাখের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন, যারা কাতারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এটি দুই দেশের মানবিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সংলাপ প্রতিষ্ঠায় কাতারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কাতার কূটনৈতিক নীতির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও মানবিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কেক কাটার মাধ্যমে জাতীয় দিবসের উদযাপন করা হয়।

এসময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।











